Published : 16 - 05 - 2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি-চতুর্থ বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬
প্রেস বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন এন্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশনের ৪র্থ বার্ষিক সাধারণ সভায় এলপিজি অটোগ্যাস খাত রক্ষায় নীতিমালা সহায়তা, সরবরাহ নিশ্চয়তা ও লাইসেন্সিং জটিলতা নিরসনের দাবি। “বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন এন্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন”-এর ৪র্থ বার্ষিক সাধারণ সভা আজ ১৬ মে ২০২৬ খ্রি., রোজ শনিবার, সকাল ১০:০০ ঘটিকায় ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএসস্থ রাওয়া ক্লাবের অ্যাংকর হলে অনুষ্ঠিত এলপিজি অটোগ্যাস খাতের সম্প্রসারন, সরবরাহ সংকট দুরিকরন, লাইসেন্সিং জটিলতা দুরিকরন, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানির প্রসার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় এসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল মাওলা বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি অটোগ্যাস ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে অটোগ্যাস নীতিমালা–২০১৬’ প্রণয়ন করেছে। এই নীতিমালার আওতায় বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১০০০ টি এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপিত হয়েছে এবং প্রায় দেড় লক্ষ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এ খাতে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতি, জ্বালানি বহুমুখীকরণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিতিশীলতা, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট, এলএনজি ও তরল জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতির প্রেক্ষাপটে এলপিজি বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত বিকল্প জ্বালানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এই খাত এখনও প্রয়োজনীয় নীতিমালা সহায়তা এবং রেগুলেটরী সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত। সভাপতি আরও বলেন, “বর্তমান এলপিজি সংকট মোকাবিলায় দেশের স্টোরেজ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন দেখা দিলে বাংলাদেশে দ্রুত সংকট তৈরি হয়।মাসে প্রায় ১৫ হাজার টন এলপিজি অটোগ্যাস খাতে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।” আমরা মনে করি, সরকারিভাবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর মাধ্যমে এলপিজি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে।” এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসিন পারভেজ বলেন, “বর্তমানে এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের একাধিক সরকারি দপ্তরের অনুমোদন গ্রহণ করতে হয়। বিস্ফোরক পরিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ১০ থেকে ১২টি সংস্থার অনুমোদন ও লাইসেন্স গ্রহণের কারণে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘসূত্রিতা ও অযাচিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সভায় উন্মক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে এসোসিয়েশনের সদস্য, এলপিজি স্টেশন মালিক ও নেতৃবৃন্দ নিম্নোক্ত দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানঃ • এলপিজি নীতিমালা ও বিধিমালা বাস্তবতার আলোকে সংশোধন করে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ । • “One Stop Service” এবং ডিজিটাল লাইসেন্সিং সেবা প্রদানের জন্য অটোমেশন করা। • এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজনে বিপিসির মাধ্যমে এলপিজি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “এলপিজি শুধুমাত্র একটি বিকল্প জ্বালানি নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই খাতকে টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।” বার্তা প্রেরকঃ মোঃ মোশারফ হোসেন অফিস সেক্রেটারি
